
এই লেখাটা যখন লিখছি, এইচএসসি ২০২৬-এর ফল তখনো প্রকাশ হয়নি। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে আগস্টে, এরপর ব্যবহারিক। ফল কবে আসবে, সেটা নিয়ে বোর্ডের ঘোষণার অপেক্ষা চলছে।
কিন্তু খুলনার কোচিং সেন্টারগুলো ফাঁকা নেই।
এটাই বাস্তবতা, আর এখান থেকেই কথাটা শুরু করা দরকার। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই ভর্তি প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সকালে ব্যাচ, বিকেলে মডেল টেস্ট, রাতে প্রশ্ন সমাধান। কেউ বসে নেই, কেউ অপেক্ষাও করছে না।
তাই “HSC-এর পর তো হাতে অনেক ফাঁকা সময়, এই ফাঁকে IELTS-টা করে ফেলুন” — এই কথাটা আমরা বলব না। যে বলে, সে এখানকার ছেলেমেয়েদের রুটিনটা না দেখেই বলে।
সমস্যাটা অবসর সময়ের না, ক্যালেন্ডারের
আসল জিনিসটা ধরা পড়ে আরও কয়েক মাস পরে গিয়ে।
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধন করেছিল ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসন এর তুলনায় অনেক কম, এটা কারও কাছেই নতুন তথ্য না। অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষার ফল যখন একে একে বের হবে, বড় একটা অংশকে দ্বিতীয় পরিকল্পনায় যেতে হবে। কেউ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ এক বছরের গ্যাপ নিয়ে আবার চেষ্টা করবে, আর কেউ বাইরে পড়ার কথা ভাববে।
শেষ দলটার গল্পগুলো প্রায় একই রকম হয়, এবং এই জায়গাটাতেই প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়।
ধরুন কারও ভর্তি পরীক্ষার ফল এলো মার্চে, মনমতো হলো না। পরিবারে আলোচনা হলো, সিদ্ধান্ত হলো বাইরে চেষ্টা করা যাক। এপ্রিলে সে প্রথমবার খোঁজ নিতে গেল, আর তখন জানতে পারল যে আবেদনের জন্য ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ লাগবে।
এরপরের হিসাবটা নির্মম। প্রস্তুতির জন্য বাস্তবে দুই থেকে চার মাস দরকার, কেউ কেউ আরও বেশি। পরীক্ষার সিট পেতে হয় আগেভাগে বুকিং দিয়ে। পরীক্ষার পর ফল আসতে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ। স্কোর হাতে পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, অফার লেটারের অপেক্ষা, তারপর ভিসা প্রক্রিয়া, যার প্রতিটি ধাপে নিজস্ব সময় লাগে।
এপ্রিল থেকে শুরু করলে সেপ্টেম্বরের ইনটেক ধরা কঠিন হয়ে যায়। তখন হাতে থাকে পরের বছরের জানুয়ারি, কিংবা তার পরের সেপ্টেম্বর। পুরো একটা বছর চলে যায়, যোগ্যতার অভাবে না, কেবল হিসাবটা দেরিতে করার কারণে।
তাহলে এখন কী করবেন
ভর্তি প্রস্তুতি বাদ দেবেন না। সেটা এখন আপনার প্রথম কাজ, এবং সেটাই থাকা উচিত।
কিন্তু IELTS-কে পুরোপুরি পরের জন্য ফেলে না রেখে এখন থেকেই হালকা করে ধরে রাখা যায়। সপ্তাহে তিন-চার ঘণ্টা, এর বেশি না।
এই সময়টায় Listening আর Reading-এ মনোযোগ দিন। এই দুটো মডিউল অভ্যাসের ওপর চলে, আর একা একাই অনেকটা এগোনো যায়। ইংরেজি অডিও শুনে নোট নেওয়া, সময় ধরে প্যাসেজ পড়া, এগুলো নিয়মিত করলে কয়েক মাসে নিজে থেকেই পার্থক্য টের পাবেন। বাড়তি লাভ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ইংরেজি অংশটাও এই একই অভ্যাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ সময়টা দুই জায়গাতেই কাজে লাগছে।
Writing আর Speaking এখন না ধরলেও চলবে। এই দুটোয় নিজের ভুল নিজে ধরা যায় না, কারও ফিডব্যাক লাগে, আর সেজন্য একটা কাঠামোবদ্ধ কোর্স দরকার। ভর্তি পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ার পর যে সময়টা আসে, সেটা এই দুটোর জন্য রেখে দিন।
ফল যা-ই হোক, স্কোরটা কাজে লাগবে
এই পরিকল্পনার সুবিধাটা হলো, ভর্তি পরীক্ষার ফল যেদিকেই যাক, আপনি লাভে থাকছেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে IELTS স্কোর অকেজো হয়ে যায় না। স্কোর সাধারণত দুই বছর বৈধ থাকে। অনার্সের মাঝপথে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, সামার স্কুল কিংবা স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি এলে আবেদনের সময় স্কোরটা হাতে থাকবে। পরে মাস্টার্সের জন্য বাইরে যেতে চাইলে তখন নতুন করে শুরু করতে হবে না।
আর সুযোগ না পেলে আপনি শূন্য থেকে শুরু করছেন না। দুই-তিন মাসের প্রস্তুতি আগেই করা আছে, তাই পরের ধাপে যেতে সময় লাগবে কম।
একটা কথা সৎভাবে বলে রাখা দরকার। ভালো ব্যান্ড স্কোর একা কোনো স্কলারশিপ এনে দেয় না। একাডেমিক ফলাফল, এসওপি, রেফারেন্স, সব মিলিয়ে বিবেচনা হয়। কিন্তু IELTS না থাকলে অনেক আবেদন শুরুই করা যায় না। এটা দরজার চাবি, দরজার ভেতরের ঘরটা না।
Academic না General, কোনটা আপনার
এখানে অনেকে গুলিয়ে ফেলে, আর ভুল ট্র্যাকে প্রস্তুতি নিয়ে সময় নষ্ট করে।
বাইরে ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে ভর্তি হতে চাইলে Academic। কাজ বা ইমিগ্রেশনের জন্য General Training। Listening আর Speaking দুই ট্র্যাকে একই, কিন্তু Reading আর Writing আলাদা। বিশেষ করে Writing Task 1 সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস — Academic-এ গ্রাফ বা ডায়াগ্রাম ব্যাখ্যা করতে হয়, General-এ চিঠি লিখতে হয়।
কোন ব্যান্ড লাগবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় আর প্রোগ্রামভেদে আলাদা, তাই পছন্দের প্রোগ্রামের শর্তটা আগে দেখে নেওয়াই ভালো। কারও জন্য যে স্কোর যথেষ্ট, অন্যজনের জন্য সেটা না-ও হতে পারে।
শুরুটা কোথা থেকে
প্রথম কাজ অনুমান বন্ধ করা। ঘড়ি ধরে একটা full-length mock test দিয়ে ফেলুন।
স্কোর যা-ই আসুক, ওটা দিয়েই বোঝা যাবে চার মডিউলের কোনটায় আপনি আসলে পিছিয়ে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে, আর তিন মাস পরিশ্রম করে ভুল জায়গায়। একটা মক টেস্ট এই ভুলটা শুরুতেই আটকে দেয়।
খুলনায় প্রস্তুতি নিতে চাইলে
Mentors’ Khulna-তে Academic আর General Training আলাদাভাবে করানো হয়, কারণ দুটোর Writing এক জিনিস না। ক্লাসের সাথে থাকে full-length mock test, আর মকের পর এক এক করে ফিডব্যাক, কোন মডিউলে কোথায় নম্বর কাটা যাচ্ছে সেটা ধরিয়ে দেওয়া। ব্যাচ ছোট রাখা হয়, যাতে Speaking-এ সবাই আলাদা করে সময় পায়।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সাথে সমন্বয় করে রুটিন করে নেওয়া যায়, সেটা নিয়ে কথা বলা যাবে।
কোর্সের বিস্তারিত এখানে: IELTS Preparation — Mentors’ Khulna
ক্যাম্পাস দুটো — তেঁতুলতলা (মিল্টন টাওয়ার, ৬৪ কেডিএ এভিনিউ) আর বয়রা (মুজগুন্নী রোড ২৩)। রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা, চাইলে এসে একটা ক্লাস দেখে যেতে পারেন।
শেষ কথা
ভর্তি পরীক্ষার ফল আসতে আরও কয়েক মাস বাকি। সেই ফল দেখার পর যদি বাইরে পড়ার কথা ভাবতে হয়, তখন প্রশ্নটা হবে একটাই — স্কোরটা হাতে আছে, নাকি তখন থেকে শুরু করতে হবে?
প্রস্তুতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন। ফ্রি কাউন্সেলিংয়ে বসে আপনার ভর্তি পরীক্ষার রুটিন আর হাতে থাকা সময় ধরে বাস্তব একটা পরিকল্পনা করে দেওয়া যাবে। WhatsApp বা কল: 01973-892592
